AC/এসি বিস্ফোরন থেকে বাঁচতে করনীয়
এসি (Air Conditioner) বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে সচেতনতা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ সবথেকে জরুরি। প্রচণ্ড গরমে এসির ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
নিরাপদ থাকতে আপনার যা যা করা উচিত:
১. নিয়মিত সার্ভিসিং করা
এসি বিস্ফোরণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘ সময় সার্ভিসিং না করা। প্রতি বছর অন্তত একবার দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি চেকআপ করান। বিশেষ করে শীতকাল শেষে গরমে এসি চালানোর আগে অবশ্যই সার্ভিসিং করিয়ে নিন।
২. বৈদ্যুতিক সংযোগ ও তার পরীক্ষা
এসিতে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। তাই এসির জন্য নিম্নমানের বা চিকন তার ব্যবহার করবেন না।
- সার্কিট ব্রেকার এবং সকেটে কোনো পোড়া দাগ বা লুজ কানেকশন আছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
- এসির জন্য আলাদা একটি মানসম্মত সার্কিট ব্রেকার (MCB) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
৩. কনডেন্সার ও ফিল্টার পরিষ্কার রাখা
এসির ইনডোর ইউনিটের ফিল্টার এবং আউটডোর ইউনিটের কনডেন্সার কয়েলে ধুলোবালি জমলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে কম্প্রেশারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং সেটি গরম হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। প্রতি মাসে অন্তত একবার ফিল্টার পরিষ্কার করুন।
৪. গ্যাস লিকেজ পরীক্ষা করা
এসি থেকে কোনো প্রকার বাজে গন্ধ বা হিস হিস শব্দ পেলে সঙ্গে সঙ্গে এসি বন্ধ করে দিন। এটি গ্যাসের লিকেজের সংকেত হতে পারে। গ্যাস লিক হয়ে এসির ভেতরে জমে থাকলে স্পার্কিং থেকে আগুন লাগতে পারে।
৫. আউটডোর ইউনিটের অবস্থান
এসির আউটডোর ইউনিটটি এমন জায়গায় স্থাপন করুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে। এটি যদি কোনো বদ্ধ জায়গায় বা সরাসরি রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকে, তবে কম্প্রেশার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যেতে পারে।
৬. এসিকে বিশ্রাম দিন
টানা ২৪ ঘণ্টা এসি চালানো মোটেও নিরাপদ নয়। মাঝে মাঝে এসি বন্ধ করে ঘরের জানলা খুলে দিন। এতে এসির যন্ত্রাংশ ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় এবং ঘরের বাতাসও সতেজ হয়।
জরুরি কিছু সতর্কতা:
- পুরানো এসি ব্যবহারে সাবধান: খুব বেশি পুরনো বা জরাজীর্ণ এসি ব্যবহার না করাই ভালো।
- বৃষ্টির সময়: বজ্রপাতের সময় এসি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই এ সময় এসি বন্ধ রাখা নিরাপদ।
- অদক্ষ টেকনিশিয়ান এড়িয়ে চলুন: সস্তায় কাজ করাতে গিয়ে অদক্ষ লোক দিয়ে এসি মেরামত করবেন না। এতে ভুল কানেকশন বা ভুল গ্যাস রিফিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গ্যাসের চুলা বিস্ফোরন থেকে বাঁচতে করনীয়
গ্যাসের চুলা বা সিলিন্ডার বিস্ফোরণ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা, তবে সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এই ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে। নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:
১. সিলিন্ডার ও পাইপ পরীক্ষা করা
- মেয়াদ পরীক্ষা: সিলিন্ডারের গায়ে থাকা মেয়াদের তারিখ (যেমন: A-26 বা B-27) নিয়মিত চেক করুন। মেয়াদ শেষ হওয়া সিলিন্ডার ব্যবহার করবেন না।
- সাবান পানির পরীক্ষা: পাইপে লিক আছে কি না তা বুঝতে সাবান-পানির ফেনা ব্যবহার করুন। পাইপের ওপর ফেনা লাগালে যদি বুদবুদ ওঠে, তবে বুঝবেন গ্যাস লিক হচ্ছে।
- পাইপ পরিবর্তন: গ্যাসের হোস পাইপ বা রাবার পাইপে ফাটল দেখা দিলে বা ২-৩ বছর হয়ে গেলে তা দ্রুত পরিবর্তন করুন।
২. রান্নাঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা
- জানালা খোলা রাখা: রান্না শুরু করার অন্তত ৫-১০ মিনিট আগে রান্নাঘরের জানালা খুলে দিন যাতে জমে থাকা কোনো গ্যাস বের হয়ে যেতে পারে।
- ভেন্টিলেশন: রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা বা এক্সহস্ট ফ্যান (Exhaust Fan) থাকা আবশ্যক।
৩. গ্যাসের গন্ধ পেলে যা করবেন না
যদি ঘরে গ্যাসের গন্ধ পান, তবে ভুলেও নিচের কাজগুলো করবেন না:
- দেশলাই বা লাইটার জ্বালাবেন না।
- বৈদ্যুতিক সুইচ (ফ্যান, লাইট) অন বা অফ করবেন না। সামান্য স্পার্ক থেকেও বড় বিস্ফোরণ হতে পারে।
- মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।
৪. লিক শনাক্ত হলে দ্রুত পদক্ষেপ
- রেগুলেটর বন্ধ করুন: সিলিন্ডারের রেগুলেটর বা মেইন ভালভ দ্রুত বন্ধ করে দিন।
- সব জানালা খুলে দিন: গ্যাস বের করে দেওয়ার জন্য ঘরের সব দরজা-জানালা খুলে দিন।
- আগুনের উৎস সরিয়ে ফেলুন: আশেপাশে কোনো জ্বলন্ত মোমবাতি বা ধূপকাঠি থাকলে তা নিভিয়ে দিন।
জরুরি কিছু টিপস:
বিষয় | করণীয় |
|---|---|
রেগুলেটর | রান্নার কাজ শেষ হলে সিলিন্ডারের রেগুলেটরটি অবশ্যই অফ করে রাখবেন। |
রান্নাঘর পরিষ্কার | চুলার বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন যাতে আগুনের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। |
সিলিন্ডার রাখা | সিলিন্ডার সবসময় খাড়া অবস্থায় রাখুন; কখনোই কাত করে বা শুইয়ে রাখবেন না। |
মনে রাখবেন: গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত মাথায় মেইন ভালভ বন্ধ করা এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করাই হলো সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
গিজার ফিস্ফোরন থেকে বাঁচতে করনীয়
গিজার (Geyser) বা ওয়াটার হিটার বিস্ফোরণ গ্যাসের চুলার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, কারণ এটি অনেকটা “বোমার” মতো কাজ করে। সাধারণত অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং পানির চাপের ভারসাম্য নষ্ট হলেই এমনটা ঘটে।
নিরাপদ থাকতে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখুন:
১. থার্মোস্ট্যাট (Thermostat) পরীক্ষা করা
গিজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো থার্মোস্ট্যাট। এর কাজ হলো পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছালে অটোমেটিক পাওয়ার বন্ধ করে দেওয়া।
- নিয়মিত চেক: থার্মোস্ট্যাট ঠিকমতো কাজ করছে কি না তা অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করান।
- অতিরিক্ত গরম: যদি দেখেন পানি অস্বাভাবিক গরম হচ্ছে, তবে বুঝবেন থার্মোস্ট্যাট নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত এটি পরিবর্তন করুন।
২. প্রেসার রিলিফ ভালভ (Pressure Relief Valve)
প্রতিটি গিজারে একটি সেফটি বা রিলিফ ভালভ থাকে। গিজারের ভেতর বাষ্পের চাপ বেশি হয়ে গেলে এই ভালভ দিয়ে তা বের হয়ে যায়।
- জট পরীক্ষা: অনেক সময় আয়রন জমে এই ভালভ আটকে যায়। এটি পরিষ্কার আছে কি না নিশ্চিত করুন।
৩. গিজার বেশিক্ষণ চালিয়ে না রাখা
অনেকেই গিজার অন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেখে দেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
- সময়সীমা: সাধারণত ১৫-২০ মিনিট অন রাখলেই পানি যথেষ্ট গরম হয়ে যায়। কাজ শেষ হওয়া মাত্রই সুইচ বন্ধ করে দিন।
- অটো-কাট: আপনার গিজারে ‘অটো-কাট’ ফিচার থাকলেও পুরোপুরি সেটির ওপর ভরসা করবেন না।
৪. সঠিক ওয়্যারিং ও আর্থিং
- উচ্চমানের তার: গিজার প্রচুর বিদ্যুৎ টানে, তাই মানসম্মত এবং মোটা ক্যাবল ব্যবহার করুন।
- আর্থিং: বাথরুমে পানির লাইনে বিদ্যুৎ চলে আসা রোধ করতে বাড়িতে সঠিক Grounding/Earthing ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক।
গিজার ব্যবহারের গোল্ডেন রুলস
বিষয় | করণীয় |
|---|---|
গোসলের সময় | গোসলে ঢোকার আগেই গিজারের সুইচ বন্ধ করে দিন। এটি শক খাওয়ার ঝুঁকি শূন্য করে দেয়। |
সার্ভিসিং | শীতকাল শুরুর আগে প্রতি বছর বিশেষজ্ঞ দিয়ে গিজার সার্ভিসিং করান। |
গ্যাসের গিজার | গ্যাসের গিজার হলে বাথরুমে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন রাখুন যেন কার্বন মনোক্সাইড জমে দমবন্ধ না হয়। |
৫. গিজার ফেটে যাওয়ার পূর্বলক্ষণ
যদি গিজার থেকে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ (Hissing বা পপিং সাউন্ড) শুনতে পান অথবা গিজারের বডি ফুলে যেতে দেখেন, তবে দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন এবং নিরাপদ দূরত্বে সরে যান।
সতর্কতা: গিজার নষ্ট হলে বা পানি গরম না হলে নিজে নিজে মেরামত করার চেষ্টা করবেন না। উচ্চ ভোল্টেজের কারণে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রেশার কুকার ও মাইক্রোওয়েভ ওভেনের নিরাপদ ব্যবহার
প্রেশার কুকার মূলত স্টিম বা বাষ্পের চাপের মাধ্যমে কাজ করে, আর ওভেন কাজ করে তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে। সামান্য অবহেলা এই যন্ত্রগুলোকে একেকটি ছোটখাটো ‘বোমায়’ পরিণত করতে পারে।
১. প্রেশার কুকার বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে করণীয়:
- ভেন্ট পাইপ ও শিস (Whistle) পরীক্ষা: রান্নার আগে অবশ্যই দেখে নিন কুকারের ভেন্ট পাইপটি পরিষ্কার আছে কি না। পাইপের ভেতরে খাবারের কণা আটকে থাকলে বাষ্প বের হতে পারে না, যার ফলে অতিরিক্ত চাপে কুকার বিস্ফোরিত হয়।
- রাবার রিং বা গ্যাসকেট: কুকারের ঢাকনার ভেতরের রাবারটি যদি ঢিলা হয়ে যায় বা ফেটে যায়, তবে তা দ্রুত পরিবর্তন করুন। রাবার নষ্ট হলে বাষ্প লিক করে হুট করে ঢাকনা খুলে যেতে পারে।
- পানির পরিমাপ: কুকারে কখনোই অতিরিক্ত পানি বা খাবার দেবেন না। সাধারণত কুকারের দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) অংশ খালি রাখা নিরাপদ। বিশেষ করে ডাল বা চাল রান্নার সময় অর্ধেকের বেশি পূর্ণ করবেন না, কারণ এগুলো ফুলে উঠে ভেন্ট পাইপ আটকে দিতে পারে।
- জোর করে ঢাকনা না খোলা: রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথে জোর করে ঢাকনা খোলার চেষ্টা করবেন না। ভেতরের বাষ্প নিজে থেকে পুরোপুরি বের হতে দিন।
- সেফটি ভালভ চেক: কুকারের ঢাকনায় একটি ছোট সেফটি ভালভ থাকে। এটি যদি অতিরিক্ত পুরনো হয়ে যায় বা মরিচা ধরে, তবে তা বদলে ফেলুন। এটি আপনার কুকারের শেষ রক্ষা কবজ।
২. মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহারে সতর্কতা:
- ধাতব পাত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ: ওভেনে কখনোই স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম বা লোহার পাত্র দেবেন না। এমনকি পাত্রের গায়ে সোনালি বা রুপালি বর্ডার থাকলেও তা ব্যবহার করবেন না। ধাতু থেকে স্পার্ক বা আগুনের ফুলকি তৈরি হয়ে ওভেনে আগুন ধরে যেতে পারে।
- প্লাস্টিকের মান: সব প্লাস্টিক ওভেনে ব্যবহারের উপযোগী নয়। শুধুমাত্র ‘Microwave Safe’ লেখা পাত্র ব্যবহার করুন। সাধারণ প্লাস্টিক গলে খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশে যেতে পারে।
- আস্ত ডিম ও বায়ুরোধী খাবার: ওভেনে আস্ত ডিম সেদ্ধ করার চেষ্টা করবেন না। খোসার ভেতরে চাপের কারণে ডিমটি কামড় দেওয়ার সময়ও আপনার মুখে বিস্ফোরিত হতে পারে। একইভাবে খোসাসহ আলু বা টমেটো দেওয়ার আগে কাঁটাচামচ দিয়ে ছিদ্র করে নিন।
- খালি ওভেন না চালানো: ভেতরে কোনো খাবার বা পানি ছাড়া ওভেন অন করবেন না। এতে মাইক্রোওয়েভগুলো শোষিত হতে না পেরে মেশিনের ম্যাগনেট্রন নষ্ট করে দেয় এবং আগুনের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ফয়েল পেপার এড়িয়ে চলা: অনেক সময় আমরা খাবার গরম করতে ফয়েল পেপার ব্যবহার করি। ওভেনে এটি ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
একটি জরুরি পরামর্শ: প্রেশার কুকার বা ওভেন ব্যবহারের সময় যদি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা পোড়া গন্ধ পান, তবে সাথে সাথে পাওয়ার অফ করে দিন। ওভেনে আগুন লাগলে দরজা না খুলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন যাতে অক্সিজেন অভাবে আগুন নিভে যায়।
মোবাইলের ব্যাটারী নিরাপদ ও Healthy রাখতে করণীয়
স্মার্টফোনের ব্যাটারি শুধু চার্জ ধরে রাখাই নয়, বরং আপনার নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটারি Explosion (বিস্ফোরণ) রোধ করতে এবং এর Health দীর্ঘদিন ভালো রাখতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা জরুরি:
১. চার্জিংয়ের গোল্ডেন রুল (২০-৮০ নিয়ম)
ব্যাটারিকে কখনো ০% হতে দেবেন না, আবার ১০০% ফুল চার্জ করাও সবসময় ভালো নয়।
- নিয়ম: ব্যাটারি ২০% এ নামলে চার্জে দিন এবং ৮০-৯০% হয়ে গেলে খুলে ফেলুন। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দিন টিকে থাকে।
- সারা রাত চার্জ: আধুনিক ফোনে অটো-কাট থাকলেও সারা রাত চার্জে রাখা এড়িয়ে চলুন। এটি ব্যাটারিতে অপ্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করে।
২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
তাপ ব্যাটারির প্রধান শত্রু।
- রোদে ফোন রাখা: গাড়ির ড্যাশবোর্ড বা জানালার পাশে সরাসরি রোদে ফোন রাখবেন না।
- চার্জিংয়ের সময় ব্যবহার: গেম খেলা বা ভারী কাজ করার সময় ফোন চার্জে দেবেন না। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে ব্যাটারি ফুলে যেতে পারে এবং বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ে।
- ব্যাক কভার খোলা: যদি দেখেন চার্জ হওয়ার সময় ফোন খুব গরম হচ্ছে, তবে চার্জ দেওয়ার সময় ব্যাক কভারটি খুলে রাখুন।
৩. সঠিক চার্জার ও ক্যাবল নির্বাচন
- অরিজিনাল চার্জার: সবসময় ফোনের সাথে আসা বা ওই ব্র্যান্ডের আসল চার্জার ব্যবহার করুন। সস্তা বা নকল চার্জারে ভোল্টেজ ওঠা-নামা করে, যা ব্যাটারির রাসায়নিক গঠন নষ্ট করে দেয়।
- পাওয়ার ব্যাংক: নিম্নমানের পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
৪. ব্যাটারি ফুলে যাওয়া বা বিকৃতি
- সতর্ক সংকেত: যদি দেখেন ফোনের পেছনের অংশ সামান্য ফুলে গেছে বা স্ক্রিনটি একটু উঁচিয়ে আসছে, তবে বুঝবেন ব্যাটারি ড্যামেজ হয়েছে।
- ঝুঁকি: এমন অবস্থায় ফোন ব্যবহার করা বা চার্জ দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। দ্রুত সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে ব্যাটারি পরিবর্তন করুন।
৫. ব্যাটারি সেভিং সেটিংস
- ব্রাইটনেস: অটো-ব্রাইটনেস অন রাখুন বা লো-ব্রাইটনেস ব্যবহার করুন।
- অপ্রয়োজনীয় কানেক্টিভিটি: ব্লুটুথ, জিপিএস (Location) এবং ওয়াইফাই কাজ শেষ হলে বন্ধ করে দিন।
- ডার্ক মোড: আপনার ফোনে যদি AMOLED ডিসপ্লে থাকে, তবে ডার্ক মোড ব্যবহার করলে ব্যাটারি খরচ অনেক কমে যায়।
বিষয় | যা করবেন (Do’s) | যা করবেন না (Don’ts) |
|---|---|---|
চার্জ লেভেল | ২০% থেকে ৮০% এর মধ্যে রাখুন। | ০% না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। |
পরিবেশ | ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে চার্জ দিন। | বালিশ বা তোশকের নিচে ফোন রেখে চার্জ দেবেন না। |
ফাস্ট চার্জিং | প্রয়োজন ছাড়া ফাস্ট চার্জার এড়িয়ে চলা ভালো। |
|
প্রো-টিপ: প্রতি ২-৩ মাস অন্তর ফোনটিকে একবার রিস্টার্ট দিন। এতে ব্যাকগ্রাউন্ডের ক্ষতিকর প্রসেসগুলো বন্ধ হয় এবং ব্যাটারির ওপর চাপ কমে।
বিঃদ্রঃ সকল তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
